Sunday, June 21, 2020

অশ্লীলতার কারণে যে বিজ্ঞাপনগুলি দেশে ব্যান করা হয়, দেখুন নিষিদ্ধ ভিডিও

টেলিভিশন চ্যানেলগুলির উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম হল বিজ্ঞাপন। সাধারণ মানুষ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই বিভিন্ন ছোটো বা বড় কোম্পানির প্রোডাক্টস সম্বন্ধে জানতে পারে। কিছু কিছু টিভির বিজ্ঞাপন খুব দ্রুত দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। কিছু বিজ্ঞাপন যেমন দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে সেরকমই এমন কিছু বিজ্ঞাপন রয়েছে যা সমস্ত সীমা অতিক্রম করে গেছে। সেইসমস্ত বিজ্ঞাপনে দেখানো হয়েছে যৌনতা এবং অশ্লীলতাকে, যেগুলি পরিবারের সাথে টিভি দেখার সময় মোটেই একসাথে দেখার যোগ্য নয়। আসুন দেখে নেওয়া যাক বিভিন্ন সময়ে আমাদের দেশে দেখানো কয়েকটি বিজ্ঞাপন যেগুলি সব বয়সী দর্শকদের দেখার জন্য অনুপযুক্ত এবং ফলস্বরুপ সেই বিজ্ঞাপনগুলিকে ব্যান করা হয়।

১. আমুল মাচো বিজ্ঞাপন (২০০৭) 

মডেল সানা খানের প্রথম বিজ্ঞাপন ছিল এটি। এই বিজ্ঞাপনে তাকে দেখা গিয়েছিল পুরুষদের একটি আন্ডারওয়্যার পরিষ্কার করতে এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে 'ইয়ে তো বড়া টোয়িং হে' কথাটি বারম্বার উচ্চারিত হচ্ছিল। এই বিজ্ঞাপনে সানার পোশাক এবং এক্সপ্রেশন যথেষ্ঠ কামোত্তেজক ছিল, যেটি টিভি দেখা সব বয়সের দর্শকদের জন্য উপযুক্ত নয়। এই বিজ্ঞাপনটি তত্‍কালীন কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর নজরে আসার পরই এই বিজ্ঞাপনটিকে ব্যান করা হয়। 

২. টাফ জুতোর বিজ্ঞাপন (১৯৯৫)

সংবাদপত্রে ছাপানো বিজ্ঞাপনগুলির মধ্যে এটিই হয়তো সবচেয়ে বিতর্কিত ছিল। এই বিজ্ঞাপনে দুই মডেল মিলিন্দ সুমন এবং মধু সাপরে কে দেখানো হয়, যেখানো তারা সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় রয়েছেন এবং তাদের জড়িয়ে রয়েছে একটি অজগর সাপ আর তাদের পড়নে শুধু রয়েছে বিজ্ঞাপনদাতা কোম্পানির জুতো। তাদের দুজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও করা হয়েছিল এই ধরণের অশ্লীল বিজ্ঞাপনের কারণে।

৩. কালিদা বিজ্ঞাপন (১৯৯৮)

এই বিজ্ঞাপনে বিপাশা বসু এবং দিনো মরিয়াকে দেখা গিয়েছিল। যেখানে দেখা যাচ্ছে দিনো মরিয়া তার দাঁত দিয়ে বিপাশার আন্ডারওয়্যার খুলছেন। এই বিজ্ঞাপনটি ব্যান হওয়ার পরও অনেকদিন দর্শকদের মনে ছিল। এই বিজ্ঞাপনের জন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হলে, বিপাশা জানিয়েছিলেন, এটা তাদের ব্যক্তিগত মূহুর্ত ছিল, এই ছবিটি বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করার ব্যাপারে তিনি জানতেন না।

৪. ফাসট্র্যাক বিজ্ঞাপন (২০১১)

এই বিজ্ঞাপনে বিরাট কোহলি এবং জেনেলিয়া ডি'সুজা কে দেখা যায়। যেখানে কোহলি বিমানের পাইলট এবং জেনেলিয়া এয়ার হোস্টেস। এরপর জেনেলিয়া, কোহলিকে তার প্রতি আকৃষ্ট করেন এবং তারা বিমানের ককপিটেই ভালোবাসা শুরু করেন। তবে অনেক বিমান সংস্থা এই বিজ্ঞাপনের ব্যাপারে আপত্তি জানায় এবং বিজ্ঞাপনটি বন্ধ করা হয়।

৫. আইডিয়া বিজ্ঞাপন (২০১১)

এই বিজ্ঞাপনে অভিষেক বচ্চনকে দেখা যায় তার বন্ধুর সাথে ভারতের বাড়ন্ত জনসংখ্যার ব্যাপারে আলোচনা করতে। প্রতিদিন লোডশেডিং এর পর স্বামীরা তাদের স্ত্রীদের সাথে শারীরিক সম্পর্কে মেতে উঠেন যার ফলে তারা গর্ভবতী হয়ে পড়েন। কিন্তু আইডিয়া থ্রী জি ইন্টারনেট ব্যবহার করে লোকজনকে ব্যস্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

৬. জ্যাটাক ডিও বিজ্ঞাপন (২০১০)


এই বিজ্ঞাপনে দেখা যায় ফুলশয্যার রাতে নববধূ তার স্বামীর অপেক্ষা করতে করতে এক মিস্টি সুগন্ধ পান। এরপর সেই মহিলা বিয়ের আংটি খুলে সেই পুরুষের কাছে চলে যায়। তার সাথে কামুক অভিব্যক্তি তো ছিলই।

৭. লাক্স কোজি বিজ্ঞাপন (২০০৭)


লাক্স কোজির আন্ডারওয়্যার পরে এক যুবকে দেখা যায় একটি কুকুরকে ধাওয়া করতে, যেটি তার তোয়ালে খুলে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল। এরপর তারা এক বাড়ির সামনে হাজির হয়, সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন বিকিনি পরিহিত এক যুবতী, যে কিনা কুকুরের মালকিন। কুকুরটি খুঁজে দেওয়ায় সে, ছেলেটির প্রতি খুশি হয় এবং তার গোপনাঙ্গের দিকে তাকিয়ে থাকে।

৮. মোটোরোলা বিজ্ঞাপন (২০০৮)


Motorola C550 ফোনের বিজ্ঞাপন সম্প্রচার বন্ধ করা হয় কারণ এই বিজ্ঞাপনে দেখা যায় এই ফোনের সাহায্যে বিভিন্ন মানুষের অসতর্ক মূহুর্তে আপত্তিকর ছবি তুলতে।

৯. ওয়াইল্ড স্টোন ডিও (২০০৭)


পশ্চিমবঙ্গের এই ডিও কোম্পানি এই বিজ্ঞাপনটির মাধ্যমে আলোড়নের সৃষ্টি করে। যেখানে একটি দুর্গাপুজোর বাড়িতে একটি মেয়ে ঠাকুরের পুজো দেওয়ার জন্য যেতে যেতে এই সুবাসে আকৃষ্ট হন এবং সেই ডিও ব্যবহারকারী পুরুষের সাথে বিছানা অবধি চলে যান।
১০. মিস্টার কফি ইন্সট্যান্ট কফি (নব্বইয়ের দশকে)
অতিরিক্ত যৌনতার দৃশ্য ও কথা উল্লেখ থাকার কারণে ব্যান হয় বিজ্ঞাপনটি। এই বিজ্ঞাপনের ট্যাগলাইন ছিল 'Real pleasure can't come in an instant'. এই বিজ্ঞাপনে দেখা গিয়েছিল মালাইকা ও আরবাজ খানকে।

১১. ম্যানফোর্স কন্ডোমের বিজ্ঞাপন


সানি লিওনের এই বিজ্ঞাপনে সানিকে অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দেখানো হয়। বিভিন্ন রাজনীতিবিদ ও সোশ্যাল অর্গানাইজেশনগুলি এই বিজ্ঞাপন বিরুদ্ধে কথা বলেন কারণ এই ধরণের বিজ্ঞাপন থেকে দেশে ধর্ষণ বাড়বে বলে মনে করেছিলেন তারা।

১২. রকেট ক্যাপসুল


বাংলায় এই বিজ্ঞাপনটি একসময় চর্চার বিষয় ছিল। যেখানে এক মহিলাকে, এক দম্পতিকে বলতে দেখা যায় 'কিরে তোরা সাত দিনে তিনবার খাট ভাঙলি', এবং এই কথাটি বেশ খারাপ অর্থই বহন করে। যে কারণে এই বিজ্ঞাপনটি ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়।

১৩. লিভাইস জিন্স (২০০১)

২০০১ সালের সময়ে এই ধরণের লো রাইস জিন্স প্রচলনে ছিল না। কিন্তু কোম্পানি এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচার চালান এই ধরণের জিন্স মেয়েদের জন্য অনেকটা আরামদায়ক হবে। আশ্চর্য্যজনক ব্যাপার হল, এই বিজ্ঞাপনের পর কোম্পানির মেয়দের জিন্সের তুলনায় ছেলেদের জিন্স বিক্রির পরিমাণ বেড়ে গিয়েছিল। এই বিজ্ঞাপনটি সরাসরি ব্যান করা না হলেও এটি অনেক বিতর্কের সৃষ্টি করে।

১৪. কামাসুত্র কন্ডোম (১৯৯১)

১৯৯১ সালে পুজা বেদি এবং মার্ক রবিনসনের এই বিজ্ঞাপনটি প্রথম সম্প্রচারিত হয়। এই বিজ্ঞাপনে একটি ঝর্ণার দৃশ্য রয়েছে এবং বিজ্ঞাপনে পুজা ও মার্ককে অত্যন্ত কামুক ভঙ্গিমায় দেখা যায়। যে কারণে বিজ্ঞাপনটির সম্প্রচারণ প্রথমে দূরদর্শনে এবং পরে অন্যান্য চ্যানেলেও বন্ধ করা হয়।

No comments:

Post a Comment

নতুন বিজ্ঞাপন এজেন্সীর যাত্রা শুরু

নতুন বিজ্ঞাপন এজেন্সী ফ্রাব অ্যাডভার্টাইজিং -এর যাত্রা শুরু করল সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা কমিটি।  নির্বাহী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেছেন মো. র...